Surah Mulk Bangla (সূরা আল-কাহফ)

Read Surah Al Kahf in Bangla with Arabic text, pronunciation, translation and audio.

Surah Number:18 (৬৭)
Ayahs:১১০ টি (30)
Revelation:Makkah (মাক্কী)
Meaning:The Cave (গুহা / পর্বতগুহা)

সূরা আল-কাহফ আরবী, উচ্চারণ ও অর্থ

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
আয়াত ১সূরা আল-কাহফ
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنزَلَ عَلَىٰ عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَل لَّهُ عِوَجًا ﴿১﴾
উচ্চারণ:

আলহামদু লিল্লাহিল্লাজী আনজালা আলা আবদিহিল কিতাবা ওয়া লাম ইয়াজআল লাহু ইওয়াজা।

অর্থ:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দার ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি।

আয়াত ২সূরা আল-কাহফ
قَيِّمًا لِّيُنذِرَ بَأْسًا شَدِيدًا مِّن لَّدُنْهُ وَيُبَشِّرَ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا حَسَنًا ﴿২﴾
উচ্চারণ:

কাইয়্যিমাল লিইউনজিরা বা’সান শাদীদাম মিন লাদুনহু ওয়া ইউবাশশিরাল মু’মিনী নাল্লাজীনা ইয়ামালূ নাস সালিহাতি আন্না লাহুম আজরান হাসানা।

অর্থ:

একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন তাঁর পক্ষ থেকে কঠিন শাস্তির ভয় দেখানোর জন্য এবং সৎকর্মশীল মুমিনদের সুসংবাদ দেওয়ার জন্য যে তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান।

আয়াত ৩সূরা আল-কাহফ
مَّاكِثِينَ فِيهِ أَبَدًا ﴿৩﴾
উচ্চারণ:

মাকিছীনা ফীহি অবদা।

অর্থ:

তারা তাতে অবস্থান করবে চিরকাল।

আয়াত ৪সূরা আল-কাহফ
وَيُنذِرَ الَّذِينَ قَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا ﴿৪﴾
উচ্চারণ:

ওয়া ইউনজিরাল্লাজীনা কালু ত্তাধাজাল্লাহু ওয়ালাদা।

অর্থ:

এবং তাদেরকে সতর্ক করার জন্য যারা বলে: আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।

আয়াত ৫সূরা আল-কাহফ
مَّا لَهُم بِهِ مِنْ عِلْمٍ وَلَا لِآبَائِهِمْ ۚ كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ ۚ إِن يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبًا ﴿৫﴾
উচ্চারণ:

মা লাহুম বিহী মিন ইলমিও ওয়া লা লিআবায়িহিম, কাবুরাত কালিমাতান তাখরুজু মিন আফওয়াহিহিম, ইন ইয়াকূলূনা ইল্লা কাজিবা।

অর্থ:

এ বিষয়ে না তাদের কোনো জ্ঞান আছে, না ছিল তাদের পিতৃপুরুষদের। কতই না জঘন্য তাদের মুখ নিঃসৃত উক্তি; তারা তো কেবল মিথ্যাই বলে।

আয়াত ৬সূরা আল-কাহফ
فَلَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ عَلَىٰ آثَارِهِمْ إِن لَّمْ يُؤْمِنُوا بِهَٰذَا الْحَدِيثِ أَسَفًا ﴿৬﴾
উচ্চারণ:

ফালাআল্লাহকা বাখিউন নাফসাকা আলা আসারিহিম ইন লাম ইউ’মিনূ বিহাজাল হাদীসি আসফা।

অর্থ:

তারা এই বাণীতে বিশ্বাস স্থাপন না করলে সম্ভবতঃ আপনি তাদের পেছনে মনস্তাপে নিজেকে ধ্বংস করে দেবেন।

আয়াত ৭সূরা আল-কাহফ
إِنَّا جَعَلْنَا مَا عَلَى الْأَرْضِ زِينَةً لَّهَا لِنَبْلُوَهُمْ أَيُّهُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا ﴿৭﴾
উচ্চারণ:

ইন্না জাআলনা মা আলাল আরদি জীনাতাল লাহা লি নাবলুওয়াহুম আইয়ুহুম আহসান আমালা।

অর্থ:

আমি পৃথিবীর ওপর যা কিছু আছে তাকে তার শোভা করেছি, মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য যে তাদের মধ্যে কে আমলের দিক দিয়ে উত্তম।

আয়াত ৮সূরা আল-কাহফ
وَإِنَّا لَجَاعِلُونَ مَا عَلَيْهَا صَعِيدًا جُرُزًا ﴿৮﴾
উচ্চারণ:

ওয়া ইন্না লাজাআলূনা মা আলাইহা সাইদান জুরুজা।

অর্থ:

এবং তার ওপর যা কিছু রয়েছে আমি তা অবশ্যই উদ্ভিদহীন শুষ্ক ময়দানে পরিণত করব।

আয়াত ৯সূরা আল-কাহফ
أَمْ حَسِبْتَ أَنَّ أَصْحَابَ الْكَهْفِ وَالرَّقِيمِ كَانُوا مِنْ آيَاتِنَا عَجَبًا ﴿৯﴾
উচ্চারণ:

আম হাসিবতা আন্না আসহাবাল কাহফি ওয়ার রাক্বীমি কানূ মিন আয়াতিনা আজাবা।

অর্থ:

আপনি কি মনে করেন যে, গুহা ও রক্বীমের অধিবাসীরা আমার নিদর্শনাবলীর মধ্যে বিস্ময়কর ছিল?

আয়াত ১০সূরা আল-কাহফ
إِذْ أَوَى الْفِتْيَةُ إِلَى الْكَهْفِ فَقَالُوا رَبَّنَا آتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا ﴿১০﴾
উচ্চারণ:

ইজ আওয়াল ফিতয়াতু ইলাল কাহফি ফাকালূ রাব্বানা আতিনা মিন লাদুনকা রাহমাতাউঁ ওয়া হায়্যি লানা মিন আমরিনা রাশাদা।

অর্থ:

যখন যুবকেরা গুহায় আশ্রয় নিল এবং বলল: হে আমাদের রব! তোমার পক্ষ থেকে আমাদের বিশেষ রহমত দান করো এবং আমাদের কাজ সঠিকভাবে সম্পাদন করার তৌফিক দাও।

আয়াত ১১সূরা আল-কাহফ
فَضَرَبْنَا عَلَىٰ آذَانِهِمْ فِي الْكَهْفِ سِنِينَ عَدَدًا ﴿১১﴾
উচ্চারণ:

ফাদারাবনা আলা আজানিহিম ফিল কাহফি সিনীনা আদাদা।

অর্থ:

অতঃপর আমি গুহায় বহু বছরের জন্য তাদের কানসমূহকে বধির করে রেখেছিলাম।

আয়াত ১২সূরা আল-কাহফ
ثُمَّ بَعَثْنَاهُمْ لِنَعْلَمَ أَيُّ الْحِزْبَيْنِ أَحْصَىٰ لِمَا لَبِثُوا أَمَدًا ﴿১২﴾
উচ্চারণ:

সুম্মা বাআস্নাহুম লিনাহলামা আইয়ুল হিজবাইনি এহসা লিমা লাবিছূ আমাদা।

অর্থ:

অতঃপর আমি তাদেরকে জাগ্রত করলাম এটা জানার জন্য যে, দুই দলের মধ্যে কোনটি তাদের অবস্থান কাল সঠিকভাবে গণনা করতে পারে।

আয়াত ১৩সূরা আল-কাহফ
نَّحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ نَبَأَهُم بِالْحَقِّ ۚ إِنَّهُمْ فِتْيَةٌ آمَنُوا بِرَبِّهِمْ وَزِدْنَاهُمْ هُدًى ﴿১৩﴾
উচ্চারণ:

নাহনু নাকুচ্ছু আলাইকা নাবআহুম বিলহাক্কি, ইন্নাহুম ফিতয়াতুন আমানূ বিরাব্বিহিম ওয়া जिदনাহুম হুদা।

অর্থ:

আমি আপনার কাছে তাদের সংবাদ সঠিকভাবে বর্ণনা করছি; নিশ্চয়ই তারা ছিল কতগুলো যুবক, যারা তাদের রবের ওপর ঈমান এনেছিল এবং আমি তাদের হেদায়েত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।

আয়াত ১৪সূরা আল-কাহফ
وَرَبَطْنَا عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ إِذْ قَامُوا فَقَالُوا رَبُّنَا رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَن نَّدْعُوَ مِن دُونِهِ إِلَٰهًا ۖ لَّقَدْ قُلْنَا إِذًا شَطَطًا ﴿১৪﴾
উচ্চারণ:

ওয়া রাবাতনা আলা কুলূবিহিম ইজ কামূ ফাকালূ রাব্বুনা রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি লান নাদউয়া মিন দূনিহী ইলাহাল লাকাদ কুলনা ইজান শততা।

অর্থ:

আর আমি তাদের অন্তরসমূহকে সুদৃঢ় করে দিয়েছিলাম যখন তারা দাঁড়িয়ে বলল: আমাদের রব তো আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর রব, আমরা কখনোই তাঁকে ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্যকে আহ্বান করব না; করলে তা অবশ্যই এক চরম অন্যায় উক্তি হবে।

আয়াত ১৫সূরা আল-কাহফ
هَٰؤُلَاءِ قَوْمُنَا اتَّخَذُوا مِن دُونِهِ آلِهَةً ۖ لَّوْلَا يَأْتُونَ عَلَيْهِم بِسُلْطَانٍ بَيِّنٍ ۖ فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَىٰ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا ﴿১৫﴾
উচ্চারণ:

হাউলায়ি কওমুনাত তাখাজূ মিন দূনিহী আলিহাতাল লাউলা ইয়া’তূনা আলাইহিম বিসুলতানিম বাইয়িনিন ফামান আজলামু মিম্মানি ফতারা আলাল্লাহি কাজিবা।

অর্থ:

আমাদের এই জাতি তো তাঁর পরিবর্তে বহু উপাস্য গ্রহণ করেছে; তারা এদের স্বপক্ষে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করে না কেন? অতএব আল্লাহর ওপর যে মিথ্যা রটায়, তার চেয়ে অধিক জালিম আর কে?

আয়াত ১৬সূরা আল-কাহফ
وَإِذِ اعْتَزَلْتُمُوهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ إِلَّا اللَّهَ فَأْوُوا إِلَى الْكَهْفِ يَنشُرْ لَكُمْ رَبُّكُم مِّن رَّحْمَتِهِ وَيُهَيِّئْ لَكُم مِّنْ أَمْرِكُم مِّرْفَقًا ﴿১৬﴾
উচ্চারণ:

ওয়া ইজি’ তাযালতুমূহুম ওয়া মা ইয়াবুদূনা ইল্লাল্লাহ ফাওঊ ইলাল কাহফি ইয়ানশুর লাকুম রাব্বুকুম মির্ন রাহমাতিহী ওয়া ইউহাইয়ি লাকুম মিন আমরিকুম মিরফাকা।

অর্থ:

আর যখন তোমরা তাদের থেকে এবং তারা আল্লাহ ব্যতীত যাদের ইবাদত করে তাদের থেকে পৃথক হলে, তখন তোমরা গুহায় আশ্রয় নাও; তোমাদের রব তোমাদের জন্য তাঁর রহমত বিস্তার করবেন এবং তোমাদের কাজের জন্য অনুকূল পরিবেশের ব্যবস্থা করবেন।

আয়াত ১৭সূরা আল-কাহফ
وَتَرَى الشَّمْسَ إِذَا طَلَعَت تَّزَاوَرُ عَن كَهْفِهِمْ ذَاتَ الْيَمِينِ وَإِذَا غَرَبَت تَّقْرِضُهُمْ ذَاتَ الشِّمَالِ وَهُمْ فِي فَجْوَةٍ مِّنْهُ ۚ ذَٰلِكَ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ ۗ مَن يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِ ۖ وَمَن يُضْلِلْ فَلَن تَجِدَ لَهُ وَلِيًّا مُُّرْشِدًا ﴿১৭﴾
উচ্চারণ:

ওয়া তারাশ শামসা ইজা তালাআত তাযাওয়ারু আন কাহফিহিম জাতাল ইয়ামীনি ওয়া ইজা গ্যারাবাত তাকরিদুহুম জাতাশ শিমালি ওয়া হুম ফী ফাজওয়াতিম মিনহু, জালিকা মিন আয়াতিল্লাহি মান ইয়াহদিল্লাহু ফহুওয়াল মুহতাদি ওয়া মাই ইউদলিল ফালান তাজিদা লাহু ওয়ালিয়্যাম মুর্শিসা।

অর্থ:

আপনি সূর্যকে দেখতে পেতেন, যখন তা উদিত হতো, তাদের গুহা হতে ডানপাশে ঢলে যেত এবং যখন অস্ত যেত, তখন তাদের থেকে বামপাশে কেটে যেত, আর তারা গুহার প্রশস্ত চত্বরে অবস্থিত ছিল। এটি আল্লাহর নিদর্শনাবলীর অন্যতম; আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন সে-ই সঠিক পথপ্রাপ্ত, আর যাকে পথভ্রষ্ট করেন আপনি তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক অভিভাবক পাবেন না।

আয়াত ১৮সূরা আল-কাহফ
وَتَحْسَبُهُمْ أَيْقَاظًا وَهُمْ رُقُودٌ ۚ وَنُقَلِّبُهُمْ ذَاتَ الْيَمِينِ وَذَاتَ الشِّمَالِ ۖ وَكَلْبُهُم بَاسِطٌ ذِرَاعَيْهِ بِالْوَصِيدِ ۚ لَوِ اطَّلَعْتَ عَلَيْهِمْ لَوَلَّيْتَ مِنْهُمْ فِرَارًا وَلَمُلِئْتَ مِنْهُمْ رُعْبًا ﴿১৮﴾
উচ্চারণ:

ওয়া তাহসাবুহুম আইকাজাঁও ওয়া হুম রুকূদুও ওয়া নুকাল্লিবুহুম জাতাল ইয়ামীনি ওয়া জাতাশ শিমালি ওয়া কালবুহুম বাসিতুন জিরাআইহি বিলওয়াসীদি লাউই ত্তালা’তা আলাইহিম লাওয়ালায়তা মিনহুম ফিরারাও ওয়া লামুলিতা মিনহুম রু’বা।

অর্থ:

আপনি তাদেরকে মনে করতেন জাগ্রত, অথচ তারা ছিল ঘুমন্ত; আর আমি তাদেরকে ডানে ও বামে পাশ ফেরাতাম; এবং তাদের কুকুরটি তার সামনের দু-পা গুহার দ্বারে প্রসারিত করে ছিল। আপনি যদি তাদেরকে উঁকি দিয়ে দেখতেন, তবে অবশ্যই পেছন ফিরে পলায়ন করতেন এবং তাদের ভয়ে শিহরিত হয়ে উঠতেন।

আয়াত ১৯সূরা আল-কাহফ
وَكَذَٰلِكَ بَعَثْنَاهُمْ لِيَتَسَاءَلُوا بَيْنَهُمْ ۚ قَالَ قَائِلٌ مِّنْهُمْ كَمْ لَبِثْتُمْ ۖ قَالُوا لَبِثْنَا يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ ۚ قَالُوا رَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَا لَبِثْتُمْ فَابْعَثُوا أَحَدَكُم بِوَرِقِكُمْ هَٰذِهِ إِلَى الْمَدِينَةِ فَلْيَنظُرْ أَيُّهَا أَزْكَىٰ طَعَامًا فَلْيَأْتِكُم بِرِزْقٍ مِّنْهُ وَلْيَتَلَطَّفْ وَلَا يُشْعِرَنَّ بِكُمْ أَحَدًا ﴿১৯﴾
উচ্চারণ:

ওয়া কাজালিকা বাআস্নাহুম লিয়াতাসাআলূ বাইনাহুম, ক্বালা কায়িলুম মিনহুম কাম লাবিছতুম, কালূ লাবিছনা ইয়াউমান আও বা’দা ইয়াউমিন, কালূ রাব্বুকুম আ’লামু বিমা লাবিছতুম ফাবআছূ আহাদাকুম বিওয়ারিকিকুম হাজিহী ইলাল মাদীনাতি ফালইয়ানজুর আইয়ুহা আজকা তাআমান ফালইয়া’তিকুম বিরিজকিম মিনহু ওয়ালইয়াতালাত্তাফ ওয়া লা ইউশিআরন্না বিকুম আহাদা।

অর্থ:

আর এভাবেই আমি তাদেরকে জাগ্রত করলাম যাতে তারা নিজেদের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করে; তাদের মধ্য হতে একজন বলল: তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ? তারা বলল: আমরা একদিন বা একদিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছি। তারা বলল: তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ তা তোমাদের রবই ভালো জানেন; অতএব তোমাদের একজনকে তোমাদের এই রৌপ্যমুদ্রাসহ শহরে পাঠাও; সে যেন দেখে শহরের কোন খাদ্য সুপবিত্র, অতঃপর সেখান থেকে তোমাদের জন্য কিছু রিযিক নিয়ে আসুক এবং সে যেন সাবধানতা অবলম্বন করে এবং তোমাদের সংবাদ কাউকে টের পেতে না দেয়।

আয়াত ২০সূরা আল-কাহফ
إِنَّهُمْ إِن يَظْهَرُوا عَلَيْكُمْ يَرْجُمُوكُمْ أَوْ يُعِيدُوكُمْ فِي مِلَّتِهِمْ وَلَن تُفْلِحُوا إِذًا أَبَدًا ﴿২০﴾
উচ্চারণ:

ইন্নাহুম ইন ইয়াজহারূ আলাইকুম ইয়ারজুমূকুম আও ইউঈদূকুম ফী মিল্লাতিহিম ওয়া লান তুফলিহূ ইজান অবদা।

অর্থ:

নিশ্চয়ই তারা যদি তোমাদের কথা জানতে পারে, তবে তোমাদেরকে পাথর মেরে হত্যা করবে অথবা তাদের ধর্মে ফিরিয়ে নেবে; আর সে অবস্থায় তোমরা কখনোই সফলকাম হবে না।

আয়াত ২১সূরা আল-কাহফ
وَكَذَٰلِكَ أَعْثَرْنَا عَلَيْهِمْ لِيَعْلَمُوا أَنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَأَنَّ السَّاعَةَ لَا رَيْبَ فِيهَا إِذْ يَتَنَازَعُونَ بَيْنَهُمْ أَمْرَهُمْ ۖ فَقَالُوا ابْنُوا عَلَيْهِم بُنْيَانًا ۖ رَّبُّهُمْ أَعْلَمُ بِهِمْ ۚ قَالَ الَّذِينَ غَلَبُوا عَلَىٰ أَمْرِهِمْ لَنَتَّخِذَنَّ عَلَيْهِم مَّسْجِدًا ﴿২১﴾
উচ্চারণ:

ওয়া কাজালিকা আ’সারনা আলাইহিম লিইয়াহলামূ আন্না ওয়াদাল্লাহি হাক্কুও ওয়া আন্নাস সাআতা লা রাইবা ফীহা ইজ ইয়াতানাজাঊনা বাইনাহুম আমরাহুম ফাকালূ ব্নূ আলাইহিম বুনিয়ানান রাব্বুহুম আ’লামু বিহিম, ক্বালা ল্লাজীনা গালাবূ আলা আমরিহিম লানাত্তাধি জান্না আলাইহিম মাসজিদা।

অর্থ:

আর এভাবেই আমি মানুষদেরকে তাদের সংবাদ জানিয়ে দিলাম, যাতে তারা জানতে পারে যে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং কিয়ামতে কোনো সন্দেহ নেই। যখন তারা তাদের নিজেদের মধ্যে তাদের কর্তব্য বিষয়ে বিতর্ক করছিল, তখন তারা বলল: এদের ওপর একটি সৌধ নির্মাণ করো; তাদের রব তাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত। আর তাদের বিষয়ে যাদের মতামত প্রাধান্য পেল তারা বলল: আমরা অবশ্যই এদের স্থানে একটি মসজিদ নির্মাণ করব।

আয়াত ২২সূরা আল-কাহফ
سَيَقُولُونَ ثَلَاثَةٌ رَّابِعُهُمْ كَلْبُهُمْ وَيَقُولُونَ خَمْسَةٌ سَادِسُهُمْ كَلْبُهُمْ رَجْمًا بِالْغَيْبِ ۖ وَيَقُولُونَ سَبْعَةٌ وَثَامِنُهُمْ كَلْبُهُمْ ۚ قُل رَّبِّي أَعْلَمُ بِعِدَّتِهِم مَّا يَعْلَمُهُمْ إِلَّا قَلِيلٌ ۗ فَلَا تُمَارِ فِيهِمْ إِلَّا مِرَاءً ظَاهِرًا وَلَا تَسْتَفْتِ فِيهِم مِّنْهُمْ أَحَدًا ﴿২২﴾
উচ্চারণ:

সায়াকূলূনা সালাসাতুর রাবিউহুম কালবুহুম ওয়া ইয়াকূলূনা খামসাতুন সাদিসুহুম কালবুহুম রাজমাম বিলগাইবি ওয়া ইয়াকূলূনা সাবআতুও ওয়া সামিনুহুম কালবুহুম, কুল রাব্বী আ’লামু বিইদ্দঅতিহিম মা ইয়াহলামুহুম ইল্লা কলীলুন ফালা তুমারি ফীহিম ইল্লা মিরাআন জাহিরাও ওয়া লা তাস্তাফতি ফীহিম মিনহুম আহাদা।

অর্থ:

কিছু লোক বলবে: তারা ছিল তিনজন, তাদের চতুর্থটি ছিল তাদের কুকুর; এবং অনেকে বলবে: তারা ছিল পাঁচজন, তাদের ষষ্ঠটি ছিল তাদের কুকুর, অদৃশ্যে অনুমান করে; আবার অনেকে বলবে: তারা ছিল সাতজন, তাদের অষ্টমটি ছিল তাদের কুকুর। বলুন: আমার রবই তাদের সংখ্যা ভালো জানেন; খুব কম লোকই তাদের সংখ্যা জানে। অতএব আপনি সাধারণ আলোচনা ব্যতীত তাদের বিষয়ে বিতর্ক করবেন না এবং তাদের কারো কাছে এদের বিষয়ে তথ্য জানতে চাইবেন না।

আয়াত ২৩সূরা আল-কাহফ
وَلَا تَقُولَنَّ لِشَيْءٍ إِنِّي فَاعِلٌ ذَٰلِكَ غَدًا ﴿২৩﴾
উচ্চারণ:

ওয়া লা তাকূলন্না লিশায়ইন ইন্নী ফায়িলুন জালিকা গাদা।

অর্থ:

এবং আপনি কোনো কাজের বিষয়ে কখনো বলবেন না যে, আমি আগামীকাল এটি করব —

আয়াত ২৪সূরা আল-কাহফ
إِلَّا أَن يَشَاءَ اللَّهُ ۚ وَاذْكُر رَّبَّكَ إِذَا نَسِيتَ وَقُلْ عَسَىٰ أَن يَهْدِيَنِ رَبِّي لِأَقْرَبَ مِنْ هَٰذَا رَشَدًا ﴿২৪﴾
উচ্চারণ:

ইল্লা আই ইয়াশাআল্লাহু ওয়াজকুর রাব্বাকা ইজা নাসীতা ওয়া কুল অসা আই ইয়াহদিয়ানি রাব্বী লিআকরাবা মিন হাজা রাশাদা।

অর্থ:

‘ইনশাআল্লাহ’ (যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন) বলা ব্যতীত। আর যদি ভুলে যান তবে আপনার রবকে স্মরণ করুন এবং বলুন: আশা করি আমার রব আমাকে এর চেয়েও নিকটতম সঠিক পথের হেদায়েত দেবেন।

আয়াত ২৫সূরা আল-কাহফ
وَلَبِثُوا فِي كَهْفِهِمْ ثَلَاثَ مِائَةٍ سِنِينَ وَازْدَادُوا تِسْعًا ﴿২৫﴾
উচ্চারণ:

ওয়া লাবিছূ ফী কাহফিহিম সালাসা মিআতিন সিনীনা ওয়াজদাদূ তিসআ।

অর্থ:

আর তারা তাদের গুহায় অবস্থান করেছিল তিনশত বছর এবং তারা আরও নয় বছর যোগ করেছিল (সৌর ও চান্দ্র গণনার পার্থক্য)।

আয়াত ২৬সূরা আল-কাহফ
قُلِ اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا لَبِثُوا ۖ لَهُ غَيْبُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ أَبْصِرْ بِهِ وَأَسْمِعْ ۚ مَا لَهُم مِّن دُونِهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا يُشْرِكُ فِي حُكْمِهِ أَحَدًا ﴿২৬﴾
উচ্চারণ:

কুলি ল্লাহু আ’লামু বিমা লাবিছূ, লাহূ গাইবুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি আবসির বিহী ওয়া আসমি’ মা লাহুম মিন দূনিহী মির্ন ওয়ালিয়্যিও ওয়া লা ইউশরিকু ফী হুকমিহী আহাদা।

অর্থ:

বলুন: তারা কতকাল অবস্থান করেছিল তা আল্লাহই ভালো জানেন; আসমান ও যমীদের অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান তাঁরই। তিনি কতই না সুন্দর দ্রষ্টা ও শ্রোতা! তিনি ব্যতীত তাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং তিনি তাঁর কর্তৃত্বে কাউকে শরিক করেন না।

আয়াত ২৭সূরা আল-কাহফ
وَاتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِن كِتَابِ رَبِّكَ ۖ لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَلَن تَجِدَ مِن دُونِهِ مُلْتَحَدًا ﴿২৭﴾
উচ্চারণ:

ওয়াতলু মা ঊহিয়া ইলাইকা মিন কিতাবি রাব্বিকা লা মুবাদ দিলা লিকালিমাতিহী ওয়া লান তাজিদা মিন দূনিহী মুলতাহাদা।

অর্থ:

আর আপনার রবের কিতাব হতে যা আপনার ওপর ওহী করা হয়েছে তা তিলাওয়াত করুন; তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার কেউ নেই এবং তিনি ব্যতীত আপনি কখনোই কোনো আশ্রয়স্থল পাবেন না।

আয়াত ২৮সূরা আল-কাহফ
وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُم بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ ۖ وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۖ وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَن ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا ﴿২৮﴾
উচ্চারণ:

ওয়াসবির নাফসাকা মাআল্লাজীনা ইয়াদঊনা রাব্বাহুম বিলগদাতি ওয়াল আশিয়্যি ইউরীদূনা ওয়াজহাহু ওয়া লা তা’দু আই নাকা আনহুম তুরীদু জীনাতাল হায়াতিদ্দুনিয়া ওয়া লা তুতি’ মান আগফালনা কালবাহু আন জিকরিনা ওয়াত্তাবাআ হাওয়াহু ওয়া কানা আমরুহু ফুরুতা।

অর্থ:

আর আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে ধৈর্যশীল রাখুন যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের রবকে ডাকে তাঁর সন্তুষ্টি কামনায় এবং পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনায় আপনার দৃষ্টি তাদের দিক হতে ফিরিয়ে নেবেন না; আর যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ হতে গাফেল করেছি এবং সে তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে ও যার কাজ সীমালঙ্ঘনমূলক হয়েছে, তার আনুগত্য করবেন না।

আয়াত ২৯সূরা আল-কাহফ
وَقُلِ الْحَقُّ مِن رَّبِّكُمْ ۖ فَمَن شَاءَ فَلْيُؤْمِن وَمَن شَاءَ فَلْيَكْفُرْ ۚ إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلظَّالِمِينَ نَارًا أَحَاطَ بِهِمْ سُرَادِقُهَا ۚ وَإِن يَسْتَغِيثُوا يُغَاثُوا بِمَاءٍ كَالْمُهْلِ يَشْوِي الْوُجُوهَ ۚ بِئْسَ الشَّرَابُ وَسَاءَتْ مُرْتَفَقًا ﴿২৯﴾
উচ্চারণ:

ওয়া কুলিল হাক্কু মির্ন রাব্বিকুম ফামান শাআ ফালইউ’মিন ওয়া মান শাআ ফালইয়াকফুর, ইন্না আ’তাদনা লিজ্জালিমীনা নারান আহাতা বিহিম সুরাদিকুহা ওয়া ইন ইয়াস্তাগীছূ ইউগাছূ বিমাআইন কালমুহলি ইয়াশউইল উজূহ বি’সাশ শরাবু ওয়া সাআত মুরতাফাকা।

অর্থ:

আর বলুন: সত্য তোমাদের রবের পক্ষ থেকে আগত; অতএব যার ইচ্ছা সে ঈমান আনুক এবং যার ইচ্ছা সে অস্বীকার করুক। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের জন্য প্রস্তুত রেখেছি অগ্নি, যার বেষ্টনী তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখবে; আর তারা যদি পানীয় প্রার্থনা করে তবে তাদেরকে গলিত ধাতুর ন্যায় পানীয় দেওয়া হবে যা তাদের মুখমন্ডল ঝলসে দেবে; কতই না নিকৃষ্ট পানীয় এবং কতই না নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল!

আয়াত ৩০সূরা আল-কাহফ
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلًا ﴿৩০﴾
উচ্চারণ:

ইন্নাল্লাজীনা আমানূ ওয়া আমিলুস সালিহাতি ইন্না লা নুদীউ আজরা মান আহসান আমালা।

অর্থ:

নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কার কখনো বিনষ্ট করি না।

আয়াত ৩১সূরা আল-কাহফ
أُو۟لَٰٓئِكَ لَهُمْ جَنَّٰتُ عَدْنٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهِمُ ٱلْأَنْهَٰرُ يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِن ذَهَبٍۢ وَيَلْبَسُونَ ثِيَابًا خُضْرًۭا مِّن سُندُسٍۢ وَإِسْتَبْرَقٍۢ مُّتَّكِـِٔينَ فِيهَا عَلَى ٱلْأَرَآئِكِ ۚ نِعْمَ ٱلثَّوَابُ وَحَسُنَتْ مُرْتَفَقًۭا ﴿৩১﴾
উচ্চারণ:

Ulaaa'ika lahum Jannaatu 'Adnin tajree min tahtihimul anhaaru yuhallawna feehaa min asaawira min zahabinw wa yalbasoona siyaaban khudram min sundusinw wa istabraqim muttaki'eena feehaa 'alal araaa'ik; ni'mas sawaab; wa hasunat murtafaqaa

অর্থ:

তাদেরই জন্যে আছে বসবাসের জান্নাত। তাদের পাদদেশে প্রবাহিত হয় নহরসমূহ। তাদের তথায় স্বর্ণ-কংকনে অলংকৃত করা হবে এবং তারা পাতলা ও মোটা রেশমের সবুজ কাপর পরিধান করবে এমতাবস্থায় যে, তারা সিংহাসনে সমাসীন হবে। চমৎকার প্রতিদান এবং কত উত্তম আশ্রয়।

আয়াত ৩২সূরা আল-কাহফ
۞ وَٱضْرِبْ لَهُم مَّثَلًۭا رَّجُلَيْنِ جَعَلْنَا لِأَحَدِهِمَا جَنَّتَيْنِ مِنْ أَعْنَٰبٍۢ وَحَفَفْنَٰهُمَا بِنَخْلٍۢ وَجَعَلْنَا بَيْنَهُمَا زَرْعًۭا ﴿৩২﴾
উচ্চারণ:

Wadrib lahum masalar rajulaini ja'alnaa li ahadihimaa jannataini min a'naabinw wa hafafnaahumaa binakhilinw wa ja'alnaa bainahumaa zar'aa

অর্থ:

আপনি তাদের কাছে দু ব্যক্তির উদাহরণ বর্ণনা করুন। আমি তাদের একজনকে দুটি আঙ্গুরের বাগান দিয়েছি এবং এ দু’টিকে খর্জুর বৃক্ষ দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছি এবং দু এর মাঝখানে করেছি শস্যক্ষেত্র।

আয়াত ৩৩সূরা আল-কাহফ
كِلْتَا ٱلْجَنَّتَيْنِ ءَاتَتْ أُكُلَهَا وَلَمْ تَظْلِم مِّنْهُ شَيْـًۭٔا ۚ وَفَجَّرْنَا خِلَٰلَهُمَا نَهَرًۭا ﴿৩৩﴾
উচ্চারণ:

Kiltal jannataini aatat ukulahaa wa lam tazlim minhu shai'anw wa fajjarnaa khi laalahumaa naharaa

অর্থ:

উভয় বাগানই ফলদান করে এবং তা থেকে কিছুই হ্রাস করত না এবং উভয়ের ফাঁকে ফাঁকে আমি নহর প্রবাহিত করেছি।

আয়াত ৩৪সূরা আল-কাহফ
وَكَانَ لَهُۥ ثَمَرٌۭ فَقَالَ لِصَٰحِبِهِۦ وَهُوَ يُحَاوِرُهُۥٓ أَنَا۠ أَكْثَرُ مِنكَ مَالًۭا وَأَعَزُّ نَفَرًۭا ﴿৩৪﴾
উচ্চারণ:

Wa kaana lahoo samarun faqaala lisaahibihee wa huwa yuhaawiruhoo ana aksaru minka maalanw wa a'azzu nafaraa

অর্থ:

সে ফল পেল। অতঃপর কথা প্রসঙ্গে সঙ্গীকে বললঃ আমার ধন-সম্পদ তোমার চাইতে বেশী এবং জনবলে আমি অধিক শক্তিশালী।

আয়াত ৩৫সূরা আল-কাহফ
وَدَخَلَ جَنَّتَهُۥ وَهُوَ ظَالِمٌۭ لِّنَفْسِهِۦ قَالَ مَآ أَظُنُّ أَن تَبِيدَ هَٰذِهِۦٓ أَبَدًۭا ﴿৩৫﴾
উচ্চারণ:

Wa dakhala jannatahoo wa huwa zaalimul linafsihee qaala maaa azunnu an tabeeda haaziheee abadaa

অর্থ:

নিজের প্রতি জুলুম করে সে তার বাগানে প্রবেশ করল। সে বললঃ আমার মনে হয় না যে, এ বাগান কখনও ধ্বংস হয়ে যাবে।

আয়াত ৩৬সূরা আল-কাহফ
وَمَآ أَظُنُّ ٱلسَّاعَةَ قَآئِمَةًۭ وَلَئِن رُّدِدتُّ إِلَىٰ رَبِّى لَأَجِدَنَّ خَيْرًۭا مِّنْهَا مُنقَلَبًۭا ﴿৩৬﴾
উচ্চারণ:

Wa maaa azunnus Saa'ata qaaa'imatanw wa la'ir rudittu ilaa Rabbee la ajidanna khairam minhaa munqalabaa

অর্থ:

এবং আমি মনে করি না যে, কেয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। যদি কখনও আমার পালনকর্তার কাছে আমাকে পৌঁছে দেয়া হয়, তবে সেখানে এর চাইতে উৎকৃষ্ট পাব।

আয়াত ৩৭সূরা আল-কাহফ
قَالَ لَهُۥ صَاحِبُهُۥ وَهُوَ يُحَاوِرُهُۥٓ أَكَفَرْتَ بِٱلَّذِى خَلَقَكَ مِن تُرَابٍۢ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍۢ ثُمَّ سَوَّىٰكَ رَجُلًۭا ﴿৩৭﴾
উচ্চারণ:

Qaala lahoo saahibuhoo wa huwa yuhaawiruhooo akafarta billazee khalaqaka min turaabin summa min nutfatin summa sawwaaka rajulaa

অর্থ:

তার সঙ্গী তাকে কথা প্রসঙ্গে বললঃ তুমি তাঁকে অস্বীকার করছ, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে, অতঃপর র্পূনাঙ্গ করেছেন তোমাকে মানবাকৃতিতে?

আয়াত ৩৮সূরা আল-কাহফ
لَّٰكِنَّا۠ هُوَ ٱللَّهُ رَبِّى وَلَآ أُشْرِكُ بِرَبِّىٓ أَحَدًۭا ﴿৩৮﴾
উচ্চারণ:

Laakinaa Huwal laahu Rabbee wa laa ushriku bi Rabbeee ahadaa

অর্থ:

কিন্তু আমি তো একথাই বলি, আল্লাহই আমার পালনকর্তা এবং আমি কাউকে আমার পালনকর্তার শরীক মানি না।

আয়াত ৩৯সূরা আল-কাহফ
وَلَوْلَآ إِذْ دَخَلْتَ جَنَّتَكَ قُلْتَ مَا شَآءَ ٱللَّهُ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِٱللَّهِ ۚ إِن تَرَنِ أَنَا۠ أَقَلَّ مِنكَ مَالًۭا وَوَلَدًۭا ﴿৩৯﴾
উচ্চারণ:

Wa law laaa iz dakhalta jannataka qulta maa shaaa'al laahu laa quwwata illaa billaah; in tarani ana aqalla minka maalanw wa waladaa

অর্থ:

যদি তুমি আমাকে ধনে ও সন্তানে তোমার চাইতে কম দেখ, তবে যখন তুমি তোমার বাগানে প্রবেশ করলে, তখন একথা কেন বললে না; আল্লাহ যা চান, তাই হয়। আল্লাহর দেয়া ব্যতীত কোন শক্তি নেই।

আয়াত ৪০সূরা আল-কাহফ
فَعَسَىٰ رَبِّىٓ أَن يُؤْتِيَنِ خَيْرًۭا مِّن جَنَّتِكَ وَيُرْسِلَ عَلَيْهَا حُسْبَانًۭا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ فَتُصْبِحَ صَعِيدًۭا زَلَقًا ﴿৪০﴾
উচ্চারণ:

Fa'asaa Rabeee any yu'tiyani khairam min jannatika wa yursila 'alaihaa husbaanam minas samaaa'i fatusbiha sa'eedan zalaqaa

অর্থ:

আশাকরি আমার পালকর্তা আমাকে তোমার বাগান অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর কিছু দেবেন এবং তার (তোমার বাগানের) উপর আসমান থেকে আগুন প্রেরণ করবেন। অতঃপর সকাল বেলায় তা পরিষ্কার ময়দান হয়ে যাবে।

আয়াত ৪১সূরা আল-কাহফ
أَوْ يُصْبِحَ مَآؤُهَا غَوْرًۭا فَلَن تَسْتَطِيعَ لَهُۥ طَلَبًۭا ﴿৪১﴾
উচ্চারণ:

Aw yusbiha maaa'uhaaa ghawran falan tastatee'a lahoo talabaa

অর্থ:

অথবা সকালে তার পানি শুকিয়ে যাবে। অতঃপর তুমি তা তালাশ করে আনতে পারবে না।

আয়াত ৪২সূরা আল-কাহফ
وَأُحِيطَ بِثَمَرِهِۦ فَأَصْبَحَ يُقَلِّبُ كَفَّيْهِ عَلَىٰ مَآ أَنفَقَ فِيهَا وَهِىَ خَاوِيَةٌ عَلَىٰ عُرُوشِهَا وَيَقُولُ يَٰلَيْتَنِى لَمْ أُشْرِكْ بِرَبِّىٓ أَحَدًۭا ﴿৪২﴾
উচ্চারণ:

Wa uheeta bisamarihee faasbaha yuqallibu kaffaihi 'alaa maaa anfaqa feehaa wa hiya khaawiyatun 'alaa 'urooshihaa wa yaqoolu yaalaitanee lam ushrik bi Rabbeee ahadaa

অর্থ:

অতঃপর তার সব ফল ধ্বংস হয়ে গেল এবং সে তাতে যা ব্যয় করেছিল, তার জন্য সকালে হাত কচলিয়ে আক্ষেপ করতে লাগল। বাগনটি কাঠসহ পুড়ে গিয়েছিল। সে বলতে লাগলঃ হায়, আমি যদি কাউকে আমার পালনকর্তার সাথে শরীক না করতাম।

আয়াত ৪৩সূরা আল-কাহফ
وَلَمْ تَكُن لَّهُۥ فِئَةٌۭ يَنصُرُونَهُۥ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَمَا كَانَ مُنتَصِرًا ﴿৪৩﴾
উচ্চারণ:

Wa lam takul lahoo fi'atuny yansuroonahoo min doonil laahi wa maa kaana muntasiraa

অর্থ:

আল্লাহ ব্যতীত তাকে সাহায্য করার কোন লোক হল না এবং সে নিজেও প্রতিকার করতে পারল না।

আয়াত ৪৪সূরা আল-কাহফ
هُنَالِكَ ٱلْوَلَٰيَةُ لِلَّهِ ٱلْحَقِّ ۚ هُوَ خَيْرٌۭ ثَوَابًۭا وَخَيْرٌ عُقْبًۭا ﴿৪৪﴾
উচ্চারণ:

Hunaalikal walaayatu lillaahil haqq; huwa khairun sawaabanw wa khairun 'uqbaa

অর্থ:

এরূপ ক্ষেত্রে সব অধিকার সত্য আল্লাহর। তারই পুরস্কার উত্তম এবং তারই প্রদত্ত প্রতিদান শ্রেষ্ঠ।

আয়াত ৪৫সূরা আল-কাহফ
وَٱضْرِبْ لَهُم مَّثَلَ ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا كَمَآءٍ أَنزَلْنَٰهُ مِنَ ٱلسَّمَآءِ فَٱخْتَلَطَ بِهِۦ نَبَاتُ ٱلْأَرْضِ فَأَصْبَحَ هَشِيمًۭا تَذْرُوهُ ٱلرِّيَٰحُ ۗ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ مُّقْتَدِرًا ﴿৪৫﴾
উচ্চারণ:

Wadrib lahum masalal hayaatid dunyaa kamaaa'in anzalnaahu minas samaaa'i fakhtalata bihee nabaatul ardi fa asbaha hasheeman tazroo hur riyaah; wa kaanal laahu 'alaa kulli shai'im muqtadiraa

অর্থ:

তাদের কাছে পার্থিব জীবনের উপমা বর্ণনা করুন। তা পানির ন্যায়, যা আমি আকাশ থেকে নাযিল করি। অতঃপর এর সংমিশ্রণে শ্যামল সবুজ ভূমিজ লতা-পাতা নির্গত হয়; অতঃপর তা এমন শুস্ক চুর্ণ-বিচুর্ণ হয় যে, বাতাসে উড়ে যায়। আল্লাহ এ সবকিছুর উপর শক্তিমান।

আয়াত ৪৬সূরা আল-কাহফ
ٱلْمَالُ وَٱلْبَنُونَ زِينَةُ ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا ۖ وَٱلْبَٰقِيَٰتُ ٱلصَّٰلِحَٰتُ خَيْرٌ عِندَ رَبِّكَ ثَوَابًۭا وَخَيْرٌ أَمَلًۭا ﴿৪৬﴾
উচ্চারণ:

Almaalu walbanoona zeenatul hayaatid dunya wal baaqiyaatus saalihaatu khairun 'inda Rabbika sawaabanw wa khairun amalaa

অর্থ:

ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য এবং স্থায়ী সৎকর্মসমূহ আপনার পালনকর্তার কাছে প্রতিদান প্রাপ্তি ও আশা লাভের জন্যে উত্তম।

আয়াত ৪৭সূরা আল-কাহফ
وَيَوْمَ نُسَيِّرُ ٱلْجِبَالَ وَتَرَى ٱلْأَرْضَ بَارِزَةًۭ وَحَشَرْنَٰهُمْ فَلَمْ نُغَادِرْ مِنْهُمْ أَحَدًۭا ﴿৪৭﴾
উচ্চারণ:

Wa yawma nusaiyirul jibaala wa taral arda baariza tanw wa hasharnaahum falam nughaadir minhum ahadaa

অর্থ:

যেদিন আমি পর্বতসমূহকে পরিচালনা করব এবং আপনি পৃথিবীকে দেখবেন একটি উম্মুক্ত প্রান্তর এবং আমি মানুষকে একত্রিত করব অতঃপর তাদের কাউকে ছাড়ব না।

আয়াত ৪৮সূরা আল-কাহফ
وَعُرِضُوا۟ عَلَىٰ رَبِّكَ صَفًّۭا لَّقَدْ جِئْتُمُونَا كَمَا خَلَقْنَٰكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍۭ ۚ بَلْ زَعَمْتُمْ أَلَّن نَّجْعَلَ لَكُم مَّوْعِدًۭا ﴿৪৮﴾
উচ্চারণ:

Wa 'uridoo 'alaa Rabbika saffaa, laqad ji'tumoonaa kamaa khalaqnaakum awala marrah; bal za'amtum allannaj'ala lakum maw'idaa

অর্থ:

তারা আপনার পালনকর্তার সামনে পেশ হবে সারিবদ্ধ ভাবে এবং বলা হবেঃ তোমরা আমার কাছে এসে গেছ; যেমন তোমাদেরকে প্রথম বার সৃষ্টি করেছিলাম। না, তোমরা তো বলতে যে, আমি তোমাদের জন্যে কোন প্রতিশ্রুত সময় নির্দিষ্ট করব না।

আয়াত ৪৯সূরা আল-কাহফ
وَوُضِعَ ٱلْكِتَٰبُ فَتَرَى ٱلْمُجْرِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا فِيهِ وَيَقُولُونَ يَٰوَيْلَتَنَا مَالِ هَٰذَا ٱلْكِتَٰبِ لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةًۭ وَلَا كَبِيرَةً إِلَّآ أَحْصَىٰهَا ۚ وَوَجَدُوا۟ مَا عَمِلُوا۟ حَاضِرًۭا ۗ وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًۭا ﴿৪৯﴾
উচ্চারণ:

Wa wudi'al kitaabu fataral mujrimeena mushfiqeena mimmaa feehi wa yaqooloona yaa wailatanaa maa lihaazal kitaabi laa yughaadiru saghee ratanw wa laa kabeeratan illaaa ahsaahaa; wa wajadoo maa 'amiloo haadiraa; wa laa yazlimu Rabbuka ahadaa

অর্থ:

আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তাতে যা আছে; তার কারণে আপনি অপরাধীদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখবেন। তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এ কেমন আমলনামা। এ যে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ দেয়নি-সবই এতে রয়েছে। তারা তাদের কৃতকর্মকে সামনে উপস্থিত পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন না।

আয়াত ৫০সূরা আল-কাহফ
وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَٰٓئِكَةِ ٱسْجُدُوا۟ لِءَادَمَ فَسَجَدُوٓا۟ إِلَّآ إِبْلِيسَ كَانَ مِنَ ٱلْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِۦٓ ۗ أَفَتَتَّخِذُونَهُۥ وَذُرِّيَّتَهُۥٓ أَوْلِيَآءَ مِن دُونِى وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّۢ ۚ بِئْسَ لِلظَّٰلِمِينَ بَدَلًۭا ﴿৫০﴾
উচ্চারণ:

Wa iz qulnaa lilma laaa'ikatis judoo li Aadama fasajadooo illaaa Ibleesa kaana minal jinni fafasaqa 'an amri Rabbih; afatattakhizoonahoo wa zurriyatahooo awliyaaa'a min doonee wa hum lakum 'aduww; bi'sa lizzaalimeena badalaa

অর্থ:

যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল। অতএব তোমরা কি আমার পরিবর্তে তাকে এবং তার বংশধরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু। এটা জালেমদের জন্যে খুবই নিকৃষ্ট বদল।

আয়াত ৫১সূরা আল-কাহফ
۞ مَّآ أَشْهَدتُّهُمْ خَلْقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَلَا خَلْقَ أَنفُسِهِمْ وَمَا كُنتُ مُتَّخِذَ ٱلْمُضِلِّينَ عَضُدًۭا ﴿৫১﴾
উচ্চারণ:

Maaa ash hattuhum khalqas samaawaati wal ardi wa laa khalqa anfusihim wa maa kuntu muttakizal mudilleena 'adudaa

অর্থ:

নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের সৃজনকালে আমি তাদেরকে সাক্ষ্য রাখিনি এবং তাদের নিজেদের সৃজনকালেও না। এবং আমি এমনও নই যে, বিভ্রান্ত কারীদেরকে সাহায্যকারীরূপে গ্রহণ করবো।

আয়াত ৫২সূরা আল-কাহফ
وَيَوْمَ يَقُولُ نَادُوا۟ شُرَكَآءِىَ ٱلَّذِينَ زَعَمْتُمْ فَدَعَوْهُمْ فَلَمْ يَسْتَجِيبُوا۟ لَهُمْ وَجَعَلْنَا بَيْنَهُم مَّوْبِقًۭا ﴿৫২﴾
উচ্চারণ:

Wa Yawma yaqoolu naadoo shurakaaa'i yal lazeena za'amtum fada'awhum falam yastajeeboo lahum wa ja'alnaa bainahum maw biqaa

অর্থ:

যেদিন তিনি বলবেনঃ তোমরা যাদেরকে আমার শরীক মনে করতে তাদেরকে ডাক। তারা তখন তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা এ আহবানে সাড়া দেবে না। আমি তাদের মধ্যস্থলে রেখে দেব একটি মৃত্যু গহবর।

আয়াত ৫৩সূরা আল-কাহফ
وَرَءَا ٱلْمُجْرِمُونَ ٱلنَّارَ فَظَنُّوٓا۟ أَنَّهُم مُّوَاقِعُوهَا وَلَمْ يَجِدُوا۟ عَنْهَا مَصْرِفًۭا ﴿৫৩﴾
উচ্চারণ:

Wa ra al mujrimoonan Naara fazannooo annahum muwaaqi'oohaa wa lam yajidoo 'anhaa masrifaa

অর্থ:

অপরাধীরা আগুন দেখে বোঝে নেবে যে, তাদেরকে তাতে পতিত হতে হবে এবং তারা তা থেকে রাস্তা পরিবর্তন করতে পারবে না।

আয়াত ৫৪সূরা আল-কাহফ
وَلَقَدْ صَرَّفْنَا فِى هَٰذَا ٱلْقُرْءَانِ لِلنَّاسِ مِن كُلِّ مَثَلٍۢ ۚ وَكَانَ ٱلْإِنسَٰنُ أَكْثَرَ شَىْءٍۢ جَدَلًۭا ﴿৫৪﴾
উচ্চারণ:

Wa laqad sarrafnaa fee haazal quraani linnaasi mn kulli masal; wa kaanal insaanu aksara shai'in jadalaa

অর্থ:

নিশ্চয় আমি এ কোরআনে মানুষকে নানাভাবে বিভিন্ন উপমার দ্বারা আমার বাণী বুঝিয়েছি। মানুষ সব বস্তু থেকে অধিক তর্কপ্রিয়।

আয়াত ৫৫সূরা আল-কাহফ
وَمَا مَنَعَ ٱلنَّاسَ أَن يُؤْمِنُوٓا۟ إِذْ جَآءَهُمُ ٱلْهُدَىٰ وَيَسْتَغْفِرُوا۟ رَبَّهُمْ إِلَّآ أَن تَأْتِيَهُمْ سُنَّةُ ٱلْأَوَّلِينَ أَوْ يَأْتِيَهُمُ ٱلْعَذَابُ قُبُلًۭا ﴿৫৫﴾
উচ্চারণ:

Wa maa mana'an naasa any yu'minooo iz jaaa'ahumul hudaa wa yastaghfiroo Rabbahum illaaa an taatiyahum sunnatul awwaleena aw yaatiyahumul 'azaabu qubulaa

অর্থ:

হেদায়েত আসার পর এ প্রতীক্ষাই শুধু মানুষকে বিশ্বাস স্থাপন করতে এবং তাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বিরত রাখে যে, কখন আসবে তাদের কাছে পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অথবা কখন আসবে তাদের কাছেআযাব সামনাসামনি।

আয়াত ৫৬সূরা আল-কাহফ
وَمَا نُرْسِلُ ٱلْمُرْسَلِينَ إِلَّا مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ ۚ وَيُجَٰدِلُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ بِٱلْبَٰطِلِ لِيُدْحِضُوا۟ بِهِ ٱلْحَقَّ ۖ وَٱتَّخَذُوٓا۟ ءَايَٰتِى وَمَآ أُنذِرُوا۟ هُزُوًۭا ﴿৫৬﴾
উচ্চারণ:

Wa maa nursilul mursaleena illaa mubashshireena wa munzireen; wa yujaadilul lazeena kafaroo bilbaatili liyudhidoo bihil haqqa wattakhazooo Aayaatee wa maaa unziroo huzuwaa

অর্থ:

আমি রাসূলগনকে সুসংবাদ দাতা ও ভয় প্রদর্শন কারীরূপেই প্রেরণ করি এবং কাফেররাই মিথ্যা অবলম্বনে বিতর্ক করে, তা দ্বারা সত্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার উদ্দেশে এবং তারা আমার নিদর্শনাবলীও যদ্বারা তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করা হয়, সেগুলোকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করেছে।

আয়াত ৫৭সূরা আল-কাহফ
وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن ذُكِّرَ بِـَٔايَٰتِ رَبِّهِۦ فَأَعْرَضَ عَنْهَا وَنَسِىَ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ ۚ إِنَّا جَعَلْنَا عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةً أَن يَفْقَهُوهُ وَفِىٓ ءَاذَانِهِمْ وَقْرًۭا ۖ وَإِن تَدْعُهُمْ إِلَى ٱلْهُدَىٰ فَلَن يَهْتَدُوٓا۟ إِذًا أَبَدًۭا ﴿৫৭﴾
উচ্চারণ:

Wa man azlamu mimman zukkira bi ayaati Rabbihee fa-a'rada 'anhaa wa nasiya maa qaddamat yadaah; innaa ja'alnaa 'alaa quloobihim akinnatan any yafqahoohu wa feee aazaanihim waqraa; wa in tad'uhum ilal hudaa falany yahtadooo izan abadaa

অর্থ:

তার চাইতে অধিক জালেম কে, যাকে তার পালনকর্তার কালাম দ্বারা বোঝানো হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তার পূর্ববর্তী কৃতকর্মসমূহ ভুলে যায়? আমি তাদের অন্তরের উপর পর্দা রেখে দিয়েছি, যেন তা না বোঝে এবং তাদের কানে রয়েছে বধিরতার বোঝা। যদি আপনি তাদেরকে সৎপথের প্রতি দাওয়াত দেন, তবে কখনই তারা সৎপথে আসবে না।

আয়াত ৫৮সূরা আল-কাহফ
وَرَبُّكَ ٱلْغَفُورُ ذُو ٱلرَّحْمَةِ ۖ لَوْ يُؤَاخِذُهُم بِمَا كَسَبُوا۟ لَعَجَّلَ لَهُمُ ٱلْعَذَابَ ۚ بَل لَّهُم مَّوْعِدٌۭ لَّن يَجِدُوا۟ مِن دُونِهِۦ مَوْئِلًۭا ﴿৫৮﴾
উচ্চারণ:

Wa Rabbukal Ghafooru zur rahmati law yu'aakhi zuhum bimaa kasaboo la'ajala lahumul 'azaab; bal lahum maw'idul lany yajidoo min doonihee maw'ilaa

অর্থ:

আপনার পালনকর্তা ক্ষমাশীল, দয়ালু, যদি তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে পাকড়াও করেন তবে তাদের শাস্তি ত্বরাম্বিত করতেন, কিন্তু তাদের জন্য রয়েছে একটি প্রতিশ্রুত সময়, যা থেকে তারা সরে যাওয়ার জায়গা পাবে না।

আয়াত ৫৯সূরা আল-কাহফ
وَتِلْكَ ٱلْقُرَىٰٓ أَهْلَكْنَٰهُمْ لَمَّا ظَلَمُوا۟ وَجَعَلْنَا لِمَهْلِكِهِم مَّوْعِدًۭا ﴿৫৯﴾
উচ্চারণ:

Wa tkal quraaa ahlak nahum lammaa zulamoo wa ja'alnaa limahlikihim maw'idaa

অর্থ:

এসব জনপদও তাদেরকে আমি ধংস করে দিয়েছি, যখন তারা জালেম হয়ে গিয়েছিল এবং আমি তাদের ধ্বংসের জন্যে একটি প্রতিশ্রুত সময় নির্দিষ্ট করেছিলাম।

আয়াত ৬০সূরা আল-কাহফ
وَإِذْ قَالَ مُوسَىٰ لِفَتَىٰهُ لَآ أَبْرَحُ حَتَّىٰٓ أَبْلُغَ مَجْمَعَ ٱلْبَحْرَيْنِ أَوْ أَمْضِىَ حُقُبًۭا ﴿৬০﴾
উচ্চারণ:

Wa iz qaalaa Moosaa lifataahu laaa abrahu hattaaa ablugha majma'al bahrayni aw amdiya huqubaa

অর্থ:

যখন মূসা তাঁর যুবক (সঙ্গী) কে বললেনঃ দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে না পৌছা পর্যন্ত আমি আসব না অথবা আমি যুগ যুগ ধরে চলতে থাকব।

আয়াত ৬১সূরা আল-কাহফ
فَلَمَّا بَلَغَا مَجْمَعَ بَيْنِهِمَا نَسِيَا حُوتَهُمَا فَٱتَّخَذَ سَبِيلَهُۥ فِى ٱلْبَحْرِ سَرَبًۭا ﴿৬১﴾
উচ্চারণ:

Falammaa balaghaa majma'a bainihimaa nasiyaa hootahumaa fattakhaza sabeelahoo fil bahri sarabaa

অর্থ:

অতঃপর যখন তাঁরা দুই সুমুদ্রের সঙ্গমস্থলে পৌছালেন, তখন তাঁরা নিজেদের মাছের কথা ভুলে গেলেন। অতঃপর মাছটি সমুদ্রে সুড়ঙ্গ পথ সৃষ্টি করে নেমে গেল।

আয়াত ৬২সূরা আল-কাহফ
فَلَمَّا جَاوَزَا قَالَ لِفَتَىٰهُ ءَاتِنَا غَدَآءَنَا لَقَدْ لَقِينَا مِن سَفَرِنَا هَٰذَا نَصَبًۭا ﴿৬২﴾
উচ্চারণ:

Falammaa jaawazaa qaala lifataahu aatinaa ghadaaa'anaa laqad laqeena min safarinaa haazaa nasabaa

অর্থ:

যখন তাঁরা সে স্থানটি অতিক্রম করে গেলেন, মূসা সঙ্গী কে বললেনঃ আমাদের নাশতা আন। আমরা এই সফরে পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছি।

আয়াত ৬৩সূরা আল-কাহফ
قَالَ أَرَءَيْتَ إِذْ أَوَيْنَآ إِلَى ٱلصَّخْرَةِ فَإِنِّى نَسِيتُ ٱلْحُوتَ وَمَآ أَنسَىٰنِيهُ إِلَّا ٱلشَّيْطَٰنُ أَنْ أَذْكُرَهُۥ ۚ وَٱتَّخَذَ سَبِيلَهُۥ فِى ٱلْبَحْرِ عَجَبًۭا ﴿৬৩﴾
উচ্চারণ:

Qaala ara'ayta iz awainaaa ilas sakhrati fa innee naseetul hoota wa maaa ansaaneehu illash Shaitaanu an azkurah; wattakhaza sabeelahoo fil bahri'ajabaa

অর্থ:

সে বললঃ আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন প্রস্তর খন্ডে আশ্রয় নিয়েছিলাম, তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। শয়তানই আমাকে একথা স্মরণ রাখতে ভুলিয়ে দিয়েছিল। মাছটি আশ্চর্য জনক ভাবে সমুদ্রে নিজের পথ করে নিয়েছে।

আয়াত ৬৪সূরা আল-কাহফ
قَالَ ذَٰلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِ ۚ فَٱرْتَدَّا عَلَىٰٓ ءَاثَارِهِمَا قَصَصًۭا ﴿৬৪﴾
উচ্চারণ:

Qaala zaalika maa kunnaa nabgh; fartaddaa 'alaa aasaari him maa qasasaa

অর্থ:

মূসা বললেনঃ আমরা তো এ স্থানটিই খুঁজছিলাম। অতঃপর তাঁরা নিজেদের চিহ্ন ধরে ফিরে চললেন।

আয়াত ৬৫সূরা আল-কাহফ
فَوَجَدَا عَبْدًۭا مِّنْ عِبَادِنَآ ءَاتَيْنَٰهُ رَحْمَةًۭ مِّنْ عِندِنَا وَعَلَّمْنَٰهُ مِن لَّدُنَّا عِلْمًۭا ﴿৬৫﴾
উচ্চারণ:

Fa wajadaa 'abdam min 'ibaadinaaa aatainaahu Rahmatam min 'indinaa wa 'allamnaahu mil ladunnaa 'ilmaa

অর্থ:

অতঃপর তাঁরা আমার বান্দাদের মধ্যে এমন একজনের সাক্ষাত পেলেন, যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে রহমত দান করেছিলাম ও আমার পক্ষ থেকে দিয়েছিলাম এক বিশেষ জ্ঞান।

আয়াত ৬৬সূরা আল-কাহফ
قَالَ لَهُۥ مُوسَىٰ هَلْ أَتَّبِعُكَ عَلَىٰٓ أَن تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًۭا ﴿৬৬﴾
উচ্চারণ:

Qaala lahoo Moosaa hal attabi'uka 'alaaa an tu'allimani mimmaa 'ullimta rushdaa

অর্থ:

মূসা তাঁকে বললেনঃ আমি কি এ শর্তে আপনার অনুসরণ করতে পারি যে, সত্যপথের যে জ্ঞান আপনাকে শেখানো হয়েছে, তা থেকে আমাকে কিছু শিক্ষা দেবেন?

আয়াত ৬৭সূরা আল-কাহফ
قَالَ إِنَّكَ لَن تَسْتَطِيعَ مَعِىَ صَبْرًۭا ﴿৬৭﴾
উচ্চারণ:

Qaalaa innaka lan tastatee'a ma'iya sabraa

অর্থ:

তিনি বললেনঃ আপনি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্য্যধারণ করে থাকতে পারবেন না।

আয়াত ৬৮সূরা আল-কাহফ
وَكَيْفَ تَصْبِرُ عَلَىٰ مَا لَمْ تُحِطْ بِهِۦ خُبْرًۭا ﴿৬৮﴾
উচ্চারণ:

Wa kaifa tasbiru 'alaa maa lam tuhit bihee khubraa

অর্থ:

যে বিষয় বোঝা আপনার আয়ত্তাধীন নয়, তা দেখে আপনি ধৈর্য্যধারণ করবেন কেমন করে?

আয়াত ৬৯সূরা আল-কাহফ
قَالَ سَتَجِدُنِىٓ إِن شَآءَ ٱللَّهُ صَابِرًۭا وَلَآ أَعْصِى لَكَ أَمْرًۭا ﴿৬৯﴾
উচ্চারণ:

Qaala satajiduneee in shaa 'al laahu saabiranw wa laaa a'see laka amraa

অর্থ:

মূসা বললেনঃ আল্লাহ চাহেন তো আপনি আমাকে ধৈর্য্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার কোন আদেশ অমান্য করব না।

আয়াত ৭০সূরা আল-কাহফ
قَالَ فَإِنِ ٱتَّبَعْتَنِى فَلَا تَسْـَٔلْنِى عَن شَىْءٍ حَتَّىٰٓ أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْرًۭا ﴿৭০﴾
উচ্চারণ:

Qaala fa init taba'tanee falaa tas'alnee 'an shai'in hattaaa uhdisa laka minhu zikraa

অর্থ:

তিনি বললেনঃ যদি আপনি আমার অনুসরণ করেনই তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবেন না, যে পর্যন্ত না আমি নিজেই সে সম্পর্কে আপনাকে কিছু বলি।

আয়াত ৭১সূরা আল-কাহফ
فَٱنطَلَقَا حَتَّىٰٓ إِذَا رَكِبَا فِى ٱلسَّفِينَةِ خَرَقَهَا ۖ قَالَ أَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ أَهْلَهَا لَقَدْ جِئْتَ شَيْـًٔا إِمْرًۭا ﴿৭১﴾
উচ্চারণ:

Fantalaqaa hattaaa izaa rakibaa fis safeenati kharaqahaa qaala akharaqtahaa litughriqa ahlahaa laqad ji'ta shai'an imraa

অর্থ:

অতঃপর তারা চলতে লাগলঃ অবশেষে যখন তারা নৌকায় আরোহণ করল, তখন তিনি তাতে ছিদ্র করে দিলেন। মূসা বললেনঃ আপনি কি এর আরোহীদেরকে ডুবিয়ে দেয়ার জন্যে এতে ছিদ্র করে দিলেন? নিশ্চয়ই আপনি একটি গুরুতর মন্দ কাজ করলেন।

আয়াত ৭২সূরা আল-কাহফ
قَالَ أَلَمْ أَقُلْ إِنَّكَ لَن تَسْتَطِيعَ مَعِىَ صَبْرًۭا ﴿৭২﴾
উচ্চারণ:

Qaala alam aqul innaka lan tastatee'a ma'iya sabraa

অর্থ:

তিনি বললেনঃ আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্য্য ধরতে পারবেন না ?

আয়াত ৭৩সূরা আল-কাহফ
قَالَ لَا تُؤَاخِذْنِى بِمَا نَسِيتُ وَلَا تُرْهِقْنِى مِنْ أَمْرِى عُسْرًۭا ﴿৭৩﴾
উচ্চারণ:

Qaala laa tu'aakhiznee bimaa naseetu wa laa turhiqnee min amree 'usraa

অর্থ:

মূসা বললেনঃ আমাকে আমার ভুলের জন্যে অপরাধী করবেন না এবং আমার কাজে আমার উপর কঠোরতা আরোপ করবেন না।

আয়াত ৭৪সূরা আল-কাহফ
فَٱنطَلَقَا حَتَّىٰٓ إِذَا لَقِيَا غُلَٰمًۭا فَقَتَلَهُۥ قَالَ أَقَتَلْتَ نَفْسًۭا زَكِيَّةًۢ بِغَيْرِ نَفْسٍۢ لَّقَدْ جِئْتَ شَيْـًۭٔا نُّكْرًۭا ﴿৭৪﴾
উচ্চারণ:

Fantalaqaa hattaa izaa laqiyaa ghulaaman faqatalahoo qaala aqatalta nafsan zakiy yatam bighairi nafs; laqad ji'ta shai'an nukraa

অর্থ:

অতঃপর তারা চলতে লাগল। অবশেষে যখন একটি বালকের সাক্ষাত পেলেন, তখন তিনি তাকে হত্যা করলেন। মূসা বললেন? আপনি কি একটি নিস্পাপ জীবন শেষ করে দিলেন প্রাণের বিনিময় ছাড়াই? নিশ্চয়ই আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন।

আয়াত ৭৫সূরা আল-কাহফ
۞ قَالَ أَلَمْ أَقُل لَّكَ إِنَّكَ لَن تَسْتَطِيعَ مَعِىَ صَبْرًۭا ﴿৭৫﴾
উচ্চারণ:

Qaala alam aqul laka innaka lan tastatee'a ma'iya sabraa

অর্থ:

তিনি বললেনঃ আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সাথে ধৈর্য্য ধরে থাকতে পারবেন না।

আয়াত ৭৬সূরা আল-কাহফ
قَالَ إِن سَأَلْتُكَ عَن شَىْءٍۭ بَعْدَهَا فَلَا تُصَٰحِبْنِى ۖ قَدْ بَلَغْتَ مِن لَّدُنِّى عُذْرًۭا ﴿৭৬﴾
উচ্চারণ:

Qaala in sa altuka 'an shai'im ba'dahaa falaa tusaahibnee qad balaghta mil ladunnee 'uzraa

অর্থ:

মূসা বললেনঃ এরপর যদি আমি আপনাকে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করি, তবে আপনি আমাকে সাথে রাখবেন না। আপনি আমার পক্ষ থেকে অভিযোগ মুক্ত হয়ে গেছেন।

আয়াত ৭৭সূরা আল-কাহফ
فَٱنطَلَقَا حَتَّىٰٓ إِذَآ أَتَيَآ أَهْلَ قَرْيَةٍ ٱسْتَطْعَمَآ أَهْلَهَا فَأَبَوْا۟ أَن يُضَيِّفُوهُمَا فَوَجَدَا فِيهَا جِدَارًۭا يُرِيدُ أَن يَنقَضَّ فَأَقَامَهُۥ ۖ قَالَ لَوْ شِئْتَ لَتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًۭا ﴿৭৭﴾
উচ্চারণ:

Fantalaqaa hattaaa izaaa atayaaa ahla qaryatinis tat'amaaa ahlahaa fa abaw any yudaiyifoohumaa fawajadaa feehaa jidaarany yureedu any yanqadda fa aqaamah; qaala law shi'ta lattakhazta 'alaihi ajraa

অর্থ:

অতঃপর তারা চলতে লাগল, অবশেষে যখন একটি জনপদের অধিবাসীদের কাছে পৌছে তাদের কাছে খাবার চাইল, তখন তারা তাদের অতিথেয়তা করতে অস্বীকার করল। অতঃপর তারা সেখানে একটি পতনোম্মুখ প্রাচীর দেখতে পেলেন, সেটি তিনি সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিলেন। মূসা বললেনঃ আপনি ইচ্ছা করলে তাদের কাছ থেকে এর পারিশ্রমিক আদায় করতে পারতেন।

আয়াত ৭৮সূরা আল-কাহফ
قَالَ هَٰذَا فِرَاقُ بَيْنِى وَبَيْنِكَ ۚ سَأُنَبِّئُكَ بِتَأْوِيلِ مَا لَمْ تَسْتَطِع عَّلَيْهِ صَبْرًا ﴿৭৮﴾
উচ্চারণ:

Qaala haazaa firaaqu bainee wa bainik; sa unabi 'uka bitaaweeli maa lam tastati' 'alaihi sabraa

অর্থ:

তিনি বললেনঃ এখানেই আমার ও আপনার মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হল। এখন যে বিষয়ে আপনি ধৈর্য্য ধরতে পারেননি, আমি তার তাৎপর্য বলে দিচ্ছি।

আয়াত ৭৯সূরা আল-কাহফ
أَمَّا ٱلسَّفِينَةُ فَكَانَتْ لِمَسَٰكِينَ يَعْمَلُونَ فِى ٱلْبَحْرِ فَأَرَدتُّ أَنْ أَعِيبَهَا وَكَانَ وَرَآءَهُم مَّلِكٌۭ يَأْخُذُ كُلَّ سَفِينَةٍ غَصْبًۭا ﴿৭৯﴾
উচ্চারণ:

Ammas safeenatu fakaanat limasaakeena ya'maloona fil bahri fa arattu an a'eebahaa wa kaana waraaa' ahum malikuny yaakhuzu kulla safeenatin ghasbaa

অর্থ:

নৌকাটির ব্যাপারে-সেটি ছিল কয়েকজন দরিদ্র ব্যক্তির। তারা সমুদ্রে জীবিকা অন্বেষন করত। আমি ইচ্ছা করলাম যে, সেটিকে ক্রটিযুক্ত করে দেই। তাদের অপরদিকে ছিল এক বাদশাহ। সে বলপ্রয়োগে প্রত্যেকটি নৌকা ছিনিয়ে নিত।

আয়াত ৮০সূরা আল-কাহফ
وَأَمَّا ٱلْغُلَٰمُ فَكَانَ أَبَوَاهُ مُؤْمِنَيْنِ فَخَشِينَآ أَن يُرْهِقَهُمَا طُغْيَٰنًۭا وَكُفْرًۭا ﴿৮০﴾
উচ্চারণ:

Wa aammal ghulaamu fakaana abawaahu mu'minaini fakhasheenaaa any yurhiqa humaa tughyaananw wa kufraa

অর্থ:

বালকটির ব্যাপার তার পিতা-মাতা ছিল ঈমানদার। আমি আশঙ্কা করলাম যে, সে অবাধ্যতা ও কুফর দ্বারা তাদেরকে প্রভাবিত করবে।

আয়াত ৮১সূরা আল-কাহফ
فَأَرَدْنَآ أَن يُبْدِلَهُمَا رَبُّهُمَا خَيْرًۭا مِّنْهُ زَكَوٰةًۭ وَأَقْرَبَ رُحْمًۭا ﴿৮১﴾
উচ্চারণ:

Faradnaa any yubdila humaa Rabbuhumaa khairam minhu zakaatanw wa aqraba ruhmaa

অর্থ:

অতঃপর আমি ইচ্ছা করলাম যে, তাদের পালনকর্তা তাদেরকে মহত্তর, তার চাইতে পবিত্রতায় ও ভালবাসায় ঘনিষ্ঠতর একটি শ্রেষ্ঠ সন্তান দান করুক।

আয়াত ৮২সূরা আল-কাহফ
وَأَمَّا ٱلْجِدَارُ فَكَانَ لِغُلَٰمَيْنِ يَتِيمَيْنِ فِى ٱلْمَدِينَةِ وَكَانَ تَحْتَهُۥ كَنزٌۭ لَّهُمَا وَكَانَ أَبُوهُمَا صَٰلِحًۭا فَأَرَادَ رَبُّكَ أَن يَبْلُغَآ أَشُدَّهُمَا وَيَسْتَخْرِجَا كَنزَهُمَا رَحْمَةًۭ مِّن رَّبِّكَ ۚ وَمَا فَعَلْتُهُۥ عَنْ أَمْرِى ۚ ذَٰلِكَ تَأْوِيلُ مَا لَمْ تَسْطِع عَّلَيْهِ صَبْرًۭا ﴿৮২﴾
উচ্চারণ:

Wa ammal jidaaru fakaana lighulaamaini yateemaini fil madeenati wa kaana tahtahoo kanzul lahumaa wa kaana aboohumaa saalihan fa araada Rabbuka any yablughaaa ashuddahumaa wa yastakhrijaa kanzahumaa rahmatam mir Rabbik; wa maa fa'altuhoo 'an amree; zaalika taaweelu maa lam tasti' 'alaihi sabra

অর্থ:

প্রাচীরের ব্যাপার-সেটি ছিল নগরের দুজন পিতৃহীন বালকের। এর নীচে ছিল তাদের গুপ্তধন এবং তাদের পিতা ছিল সৎকর্ম পরায়ন। সুতরাং আপনার পালনকর্তা দায়বশতঃ ইচ্ছা করলেন যে, তারা যৌবনে পদার্পন করুক এবং নিজেদের গুপ্তধন উদ্ধার করুক। আমি নিজ মতে এটা করিনি। আপনি যে বিষয়ে ধৈর্য্যধারণ করতে অক্ষম হয়েছিলেন, এই হল তার ব্যাখ্যা।

আয়াত ৮৩সূরা আল-কাহফ
وَيَسْـَٔلُونَكَ عَن ذِى ٱلْقَرْنَيْنِ ۖ قُلْ سَأَتْلُوا۟ عَلَيْكُم مِّنْهُ ذِكْرًا ﴿৮৩﴾
উচ্চারণ:

Wa yas'aloonaka 'an Zil Qarnaini qul sa atloo 'alaikum minhu zikraa

অর্থ:

তারা আপনাকে যুলকারনাইন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুনঃ আমি তোমাদের কাছে তাঁর কিছু অবস্থা বর্ণনা করব।

আয়াত ৮৪সূরা আল-কাহফ
إِنَّا مَكَّنَّا لَهُۥ فِى ٱلْأَرْضِ وَءَاتَيْنَٰهُ مِن كُلِّ شَىْءٍۢ سَبَبًۭا ﴿৮৪﴾
উচ্চারণ:

Innaa makkannaa lahoo fil ardi wa aatainaahu min kulli shai'in sababaa

অর্থ:

আমি তাকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম এবং প্রত্যেক বিষয়ের কার্যোপকরণ দান করেছিলাম।

আয়াত ৮৫সূরা আল-কাহফ
فَأَتْبَعَ سَبَبًا ﴿৮৫﴾
উচ্চারণ:

Fa atba'a sababaa

অর্থ:

অতঃপর তিনি এক কার্যোপকরণ অবলম্বন করলেন।

আয়াত ৮৬সূরা আল-কাহফ
حَتَّىٰٓ إِذَا بَلَغَ مَغْرِبَ ٱلشَّمْسِ وَجَدَهَا تَغْرُبُ فِى عَيْنٍ حَمِئَةٍۢ وَوَجَدَ عِندَهَا قَوْمًۭا ۗ قُلْنَا يَٰذَا ٱلْقَرْنَيْنِ إِمَّآ أَن تُعَذِّبَ وَإِمَّآ أَن تَتَّخِذَ فِيهِمْ حُسْنًۭا ﴿৮৬﴾
উচ্চারণ:

Hattaaa izaa balagha maghribash shamsi wajadahaaa taghrubu fee 'aynin hami'a tinw wa wajada 'indahaa qawmaa; qulnaa yaa Zal Qarnaini immaaa an tu'az ziba wa immaaa an tattakhiza feehim husnaa

অর্থ:

অবশেষে তিনি যখন সুর্যের অস্তাচলে পৌছলেন; তখন তিনি সুর্যকে এক পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখলেন এবং তিনি সেখানে এক সম্প্রদায়কে দেখতে পেলেন। আমি বললাম, হে যুলকারনাইন! আপনি তাদেরকে শাস্তি দিতে পারেন অথবা তাদেরকে সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পারেন।

আয়াত ৮৭সূরা আল-কাহফ
قَالَ أَمَّا مَن ظَلَمَ فَسَوْفَ نُعَذِّبُهُۥ ثُمَّ يُرَدُّ إِلَىٰ رَبِّهِۦ فَيُعَذِّبُهُۥ عَذَابًۭا نُّكْرًۭا ﴿৮৭﴾
উচ্চারণ:

Qaala amaa man zalama fasawfa nu'azzibuhoo summa yuraddu ilaa Rabbihee fa yu 'azzibuhoo azaaban nukraa

অর্থ:

তিনি বললেনঃ যে কেউ সীমালঙ্ঘনকারী হবে আমি তাকে শাস্তি দেব। অতঃপর তিনি তাঁর পালনকর্তার কাছে ফিরে যাবেন। তিনি তাকে কঠোর শাস্তি দেবেন।

আয়াত ৮৮সূরা আল-কাহফ
وَأَمَّا مَنْ ءَامَنَ وَعَمِلَ صَٰلِحًۭا فَلَهُۥ جَزَآءً ٱلْحُسْنَىٰ ۖ وَسَنَقُولُ لَهُۥ مِنْ أَمْرِنَا يُسْرًۭا ﴿৮৮﴾
উচ্চারণ:

Wa ammaa man aamana wa 'amila saalihan falahoo jazaaa'anil husnaa wa sanaqoolu lahoo min amrinaa yusraa

অর্থ:

এবং যে বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে তার জন্য প্রতিদান রয়েছে কল্যাণ এবং আমার কাজে তাকে সহজ নির্দেশ দেব।

আয়াত ৮৯সূরা আল-কাহফ
ثُمَّ أَتْبَعَ سَبَبًا ﴿৮৯﴾
উচ্চারণ:

Summa atba'a sababaa

অর্থ:

অতঃপর তিনি এক উপায় অবলম্বন করলেন।

আয়াত ৯০সূরা আল-কাহফ
حَتَّىٰٓ إِذَا بَلَغَ مَطْلِعَ ٱلشَّمْسِ وَجَدَهَا تَطْلُعُ عَلَىٰ قَوْمٍۢ لَّمْ نَجْعَل لَّهُم مِّن دُونِهَا سِتْرًۭا ﴿৯০﴾
উচ্চারণ:

Hattaaa izaa balagha matli'ash shamsi wajdahaa tatlu'u alaa qawmil lam naj'al lahum min doonihaa sitraa

অর্থ:

অবশেষে তিনি যখন সূর্যের উদয়াচলে পৌছলেন, তখন তিনি তাকে এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদয় হতে দেখলেন, যাদের জন্যে সূর্যতাপ থেকে আত্নরক্ষার কোন আড়াল আমি সৃষ্টি করিনি।

আয়াত ৯১সূরা আল-কাহফ
كَذَٰلِكَ وَقَدْ أَحَطْنَا بِمَا لَدَيْهِ خُبْرًۭا ﴿৯১﴾
উচ্চারণ:

Kazaalika wa qad ahatnaa bimaa ladaihi khubraa

অর্থ:

প্রকৃত ঘটনা এমনিই। তার বৃত্তান্ত আমি সম্যক অবগত আছি।

আয়াত ৯২সূরা আল-কাহফ
ثُمَّ أَتْبَعَ سَبَبًا ﴿৯২﴾
উচ্চারণ:

Summa atba'a sababaa

অর্থ:

আবার তিনি এক পথ ধরলেন।

আয়াত ৯৩সূরা আল-কাহফ
حَتَّىٰٓ إِذَا بَلَغَ بَيْنَ ٱلسَّدَّيْنِ وَجَدَ مِن دُونِهِمَا قَوْمًۭا لَّا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ قَوْلًۭا ﴿৯৩﴾
উচ্চারণ:

Hattaaa izaa balagha bainas saddaini wajada min doonihimaa qawmal laa yakaa doona yafqahoona qawlaa

অর্থ:

অবশেষে যখন তিনি দুই পর্বত প্রচীরের মধ্যস্থলে পৌছলেন, তখন তিনি সেখানে এক জাতিকে পেলেন, যারা তাঁর কথা একেবারেই বুঝতে পারছিল না।

আয়াত ৯৪সূরা আল-কাহফ
قَالُوا۟ يَٰذَا ٱلْقَرْنَيْنِ إِنَّ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مُفْسِدُونَ فِى ٱلْأَرْضِ فَهَلْ نَجْعَلُ لَكَ خَرْجًا عَلَىٰٓ أَن تَجْعَلَ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ سَدًّۭا ﴿৯৪﴾
উচ্চারণ:

Qaaloo yaa Zal qarnaini inna Yaajooja wa Maajooja mufsidoona fil ardi fahal naj'alu laka kharjan 'alaaa an taj'ala bainanaa wa bainahum saddas

অর্থ:

তারা বললঃ হে যুলকারনাইন, ইয়াজুজ ও মাজুজ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। আপনি বললে আমরা আপনার জন্যে কিছু কর ধার্য করব এই শর্তে যে, আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দেবেন।

আয়াত ৯৫সূরা আল-কাহফ
قَالَ مَا مَكَّنِّى فِيهِ رَبِّى خَيْرٌۭ فَأَعِينُونِى بِقُوَّةٍ أَجْعَلْ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ رَدْمًا ﴿৯৫﴾
উচ্চারণ:

Qaala maa makkannee feehi Rabbee khairun fa-a'eenoonee biquwwatin aj'al bainakum wa bainahum radmaa

অর্থ:

তিনি বললেনঃ আমার পালনকর্তা আমাকে যে সামর্থ?2470;িয়েছেন, তাই যথেষ্ট। অতএব, তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য কর। আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেব।

আয়াত ৯৬সূরা আল-কাহফ
ءَاتُونِى زُبَرَ ٱلْحَدِيدِ ۖ حَتَّىٰٓ إِذَا سَاوَىٰ بَيْنَ ٱلصَّدَفَيْنِ قَالَ ٱنفُخُوا۟ ۖ حَتَّىٰٓ إِذَا جَعَلَهُۥ نَارًۭا قَالَ ءَاتُونِىٓ أُفْرِغْ عَلَيْهِ قِطْرًۭا ﴿৯৬﴾
উচ্চারণ:

Aatoonee zubaral hadeed, hattaaa izaa saawaa bainas sadafaini qaalan fukhoo hattaaa izaa ja'alahoo naaran qaala aatooneee ufrigh 'alaihi qitraa

অর্থ:

তোমরা আমাকে লোহার পাত এনে দাও। অবশেষে যখন পাহাড়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান পূর্ণ হয়ে গেল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা হাঁপরে দম দিতে থাক। অবশেষে যখন তা আগুনে পরিণত হল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা গলিত তামা নিয়ে এস, আমি তা এর উপরে ঢেলে দেই।

আয়াত ৯৭সূরা আল-কাহফ
فَمَا ٱسْطَٰعُوٓا۟ أَن يَظْهَرُوهُ وَمَا ٱسْتَطَٰعُوا۟ لَهُۥ نَقْبًۭا ﴿৯৭﴾
উচ্চারণ:

Famas taa'ooo any yazharoohu wa mastataa'oo lahoo naqbaa

অর্থ:

অতঃপর ইয়াজুজ ও মাজুজ তার উপরে আরোহণ করতে পারল না এবং তা ভেদ করতে ও সক্ষম হল না।

আয়াত ৯৮সূরা আল-কাহফ
قَالَ هَٰذَا رَحْمَةٌۭ مِّن رَّبِّى ۖ فَإِذَا جَآءَ وَعْدُ رَبِّى جَعَلَهُۥ دَكَّآءَ ۖ وَكَانَ وَعْدُ رَبِّى حَقًّۭا ﴿৯৮﴾
উচ্চারণ:

Qaala haaza rahmatummir Rabbee fa izaa jaaa'a wa'du Rabbee ja'alahoo dakkaaa'a; wa kaana; wa du Rabbee haqqaa

অর্থ:

যুলকারনাইন বললেনঃ এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ। যখন আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন তিনি একে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন এবং আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুতি সত্য।

আয়াত ৯৯সূরা আল-কাহফ
۞ وَتَرَكْنَا بَعْضَهُمْ يَوْمَئِذٍۢ يَمُوجُ فِى بَعْضٍۢ ۖ وَنُفِخَ فِى ٱلصُّورِ فَجَمَعْنَٰهُمْ جَمْعًۭا ﴿৯৯﴾
উচ্চারণ:

Wa taraknaa ba'dahum Yawma'iziny yamooju fee ba'dinw wa nufikha fis Soori fajama'naahum jam'aa

অর্থ:

আমি সেদিন তাদেরকে দলে দলে তরঙ্গের আকারে ছেড়ে দেব এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করে আনব।

আয়াত ১০০সূরা আল-কাহফ
وَعَرَضْنَا جَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍۢ لِّلْكَٰفِرِينَ عَرْضًا ﴿১০০﴾
উচ্চারণ:

Wa 'aradnaa jahannama Yawma'izil lilkaafireena 'ardaa

অর্থ:

সেদিন আমি কাফেরদের কাছে জাহান্নামকে প্রত্যক্ষ ভাবে উপস্থিত করব।

আয়াত ১০১সূরা আল-কাহফ
ٱلَّذِينَ كَانَتْ أَعْيُنُهُمْ فِى غِطَآءٍ عَن ذِكْرِى وَكَانُوا۟ لَا يَسْتَطِيعُونَ سَمْعًا ﴿১০১﴾
উচ্চারণ:

Allazeena kaanat a'yunuhum fee ghitaaa'in 'an zikree wa kaanoo la yastatee'oona sam'aa

অর্থ:

যাদের চক্ষুসমূহের উপর পর্দা ছিল আমার স্মরণ থেকে এবং যারা শুনতেও সক্ষম ছিল না।

আয়াত ১০২সূরা আল-কাহফ
أَفَحَسِبَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَن يَتَّخِذُوا۟ عِبَادِى مِن دُونِىٓ أَوْلِيَآءَ ۚ إِنَّآ أَعْتَدْنَا جَهَنَّمَ لِلْكَٰفِرِينَ نُزُلًۭا ﴿১০২﴾
উচ্চারণ:

Afahasibal lazeena kafarooo any yattakhizoo 'ibaadee min dooneee awliyaaa'; innaaa a'tadnaa jahannama lilkaafi reena nuzulaa

অর্থ:

কাফেররা কি মনে করে যে, তারা আমার পরিবর্তে আমার বান্দাদেরকে অভিভাবক রূপে গ্রহণ করবে? আমি কাফেরদের অভ্যর্থনার জন্যে জাহান্নামকে প্রস্তুত করে রেখেছি।

আয়াত ১০৩সূরা আল-কাহফ
قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُم بِٱلْأَخْسَرِينَ أَعْمَٰلًا ﴿১০৩﴾
উচ্চারণ:

Qul hal nunabbi'ukum bilakhsareena a'maalaa

অর্থ:

বলুনঃ আমি কি তোমাদেরকে সেসব লোকের সংবাদ দেব, যারা কর্মের দিক দিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত।

আয়াত ১০৪সূরা আল-কাহফ
ٱلَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا ﴿১০৪﴾
উচ্চারণ:

Allazeena dalla sa'yuhum fil hayaatid dunyaa wa hum yahsaboona annahum yuhsinoona sun'aa

অর্থ:

তারাই সে লোক, যাদের প্রচেষ্টা পার্থিবজীবনে বিভ্রান্ত হয়, অথচ তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্ম করেছে।

আয়াত ১০৫সূরা আল-কাহফ
أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ بِـَٔايَٰتِ رَبِّهِمْ وَلِقَآئِهِۦ فَحَبِطَتْ أَعْمَٰلُهُمْ فَلَا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ وَزْنًۭا ﴿১০৫﴾
উচ্চারণ:

Ulaaa'ikal lazeena kafaroo bi aayaati Rabbihim wa liqaaa'ihee fahabitat a'maaluhum falaa nuqeemu lahum Yawmal Qiyaamati waznaa

অর্থ:

তারাই সে লোক, যারা তাদের পালনকর্তার নিদর্শনাবলী এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয় অস্বীকার করে। ফলে তাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যায়। সুতরাং কেয়ামতের দিন তাদের জন্য আমি কোন গুরুত্ব স্থির করব না।

আয়াত ১০৬সূরা আল-কাহফ
ذَٰلِكَ جَزَآؤُهُمْ جَهَنَّمُ بِمَا كَفَرُوا۟ وَٱتَّخَذُوٓا۟ ءَايَٰتِى وَرُسُلِى هُزُوًا ﴿১০৬﴾
উচ্চারণ:

Zaalika jazaaa'uhum jahannamu bimaa kafaroo wattakhazooo Aayaatee wa Rusulee huzuwaa

অর্থ:

জাহান্নাম-এটাই তাদের প্রতিফল; কারণ, তারা কাফের হয়েছে এবং আমার নিদর্শনাবলী ও রসূলগণকে বিদ্রূপের বিষয় রূপে গ্রহণ করেছে।

আয়াত ১০৭সূরা আল-কাহফ
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّٰتُ ٱلْفِرْدَوْسِ نُزُلًا ﴿১০৭﴾
উচ্চারণ:

Innal lazeena aamanoo wa 'amilus saalihaati kaanat lahum Jannaatul Firdawsi nuzulaa

অর্থ:

যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের অভ্যর্থনার জন্যে আছে জান্নাতুল ফেরদাউস।

আয়াত ১০৮সূরা আল-কাহফ
خَٰلِدِينَ فِيهَا لَا يَبْغُونَ عَنْهَا حِوَلًۭا ﴿১০৮﴾
উচ্চারণ:

Khaalideena feeha la yabghoona 'anhaa hiwalaa

অর্থ:

সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, সেখান থেকে স্থান পরিবর্তন করতে চাইবে না।

আয়াত ১০৯সূরা আল-কাহফ
قُل لَّوْ كَانَ ٱلْبَحْرُ مِدَادًۭا لِّكَلِمَٰتِ رَبِّى لَنَفِدَ ٱلْبَحْرُ قَبْلَ أَن تَنفَدَ كَلِمَٰتُ رَبِّى وَلَوْ جِئْنَا بِمِثْلِهِۦ مَدَدًۭا ﴿১০৯﴾
উচ্চারণ:

Qul law kaanal bahru midaadal lik Kalimaati Rabbee lanafidal bahru qabla an tanfada Kalimaatu Rabbee wa law ji'naa bimislihee madadaa

অর্থ:

বলুনঃ আমার পালনকর্তার কথা, লেখার জন্যে যদি সমুদ্রের পানি কালি হয়, তবে আমার পালনকর্তার কথা, শেষ হওয়ার আগেই সে সমুদ্র নিঃশেষিত হয়ে যাবে। সাহায্যার্থে অনুরূপ আরেকটি সমুদ্র এনে দিলেও।

আয়াত ১১০সূরা আল-কাহফ
قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوحَىٰ إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ ۖ فَمَن كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا ﴿১১০﴾
উচ্চারণ:

কুল ইন্নামা আনা বাশারুম মিছলুকুম ইউহা ইলাইয়া আন্নামা ইলাহুকুম ইলাহুঁও ওয়াহিদ, ফামান কানা ইয়ারজূ লিকায়া রাব্বিহী ফালইয়ামাল আমলান সালিহাউঁ ওয়া লা ইউশরিক বিইবাদাতি রাব্বিহী আহাদা।

অর্থ:

বলুন: আমি তো কেবল তোমাদের মতোই একজন মানুষ, আমার ওপর ওহী অবতীর্ণ হয় যে, তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ; অতএব যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ আশা করে, সে যেন সৎকাজ করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকেও শরিক না করে।

সূরা আল-কাহফ এর ফজিলত ও গুরুত্ব (Virtues)

  • ✦রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা আল-কাহফ পাঠ করবে, তার পদতল থেকে আসমান পর্যন্ত নূর উজ্জ্বল হবে যা কিয়ামতের দিন তার জন্য আলো দেবে এবং দুই জুমার মধ্যবর্তী গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (বাইহাকী)
  • ✦যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম ১০টি আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষিত থাকবে। (সহীহ মুসলিম)

সাধারণ জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

What is Surah Kahf?

সূরা আল-কাহফ পবিত্র কুরআনের ১৮তম মাক্কী সূরা। এতে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

How many ayahs are in Surah Kahf?

সূরা আল-কাহফের মোট আয়াত সংখ্যা ১১০।

What is Surah Kahf meaning in Bangla?

‘আল-কাহফ’ শব্দের অর্থ গুহা বা পর্বতগুহা।

Where was Surah Kahf revealed?

সূরা আল-কাহফ মক্কাতুল মোকাররমায় অবতীর্ণ একটি মাক্কী সূরা।

Why do Muslims read Surah Kahf on Friday?

কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনে সূরা কাহফ পড়ার বিশেষ তাকিদ দিয়েছেন এবং এতে দাজ্জালের ফিতনা থেকে মুক্তির শিক্ষা রয়েছে।

Is Surah Kahf available with Bangla pronunciation?

হ্যাঁ, ফ্রিটুলস বিডি-তে সূরা আল-কাহফের সকল আয়াতের আরবী পাঠ, সহজ বাংলা উচ্চারণ (Uccharon) ও অর্থ উপলব্ধ।

Can I download Surah Kahf Bangla PDF?

হ্যাঁ, আমাদের পিডিএফ সেকশন থেকে সূরা আল-কাহফ বাংলা অর্থ ও উচ্চারণসহ ফ্রি ডাউনলোড করতে পারবেন।